শিরোনাম :
সিলেটে ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেফতার বাধ্য হয়েই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী প্রথমবারের মতো ড্যান্স পারফর্ম করে ভীষণ উচ্ছ্বসিত রিবা রূপগঞ্জে ‘আন্ডা রফিক’-এর সন্ত্রাস, জমি দখল ও অর্থপাচার দীর্ঘদিনের পলাতকতার শেষে নতুন উত্তেজনা মৌলভীবাজারে ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর উদ্বোধন  মগরাহাট পশ্চিমে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সামিম আহমেদের জয় শুধু মাত্র সময়ের অপেক্ষা লালমনিরহাটে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার সাভারে এম.এ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত কুমিল্লার কৃষকের বরাদ্দ খেয়ে খেলতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা : কৃষিমন্ত্রী আজ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই
যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ

শিক্ষা ডেস্ক:

করোনার দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও অনেক শিক্ষার্থীই আর স্কুলে ফিরছে না। মাধ্যমিকে নবম এবং প্রাথমিকে চতুর্থ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সবচেয়ে কম। মাধ্যমিকে গড় উপস্থিতির হার ৫৭ থেকে ৬৯ শতাংশ এবং প্রাথমিকে ৬৫ থেকে ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ শ্রেণিভেদে মাধ্যমিকে ৪৩ থেকে ৩১ শতাংশ এবং প্রাথমিকে ৩৫ থেকে ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনার পর শ্রেণিকক্ষে আসছে না।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের উপস্থিতি কম।
kalerkanthoব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন, ব্রিটিশ কাউন্সিল, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, রুম টু রিডসহ ২১টি প্রতিষ্ঠানের ‘নিরাপদে স্কুলে ফিরি’ শীর্ষক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির প্রধান পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া, বাল্যবিবাহ, পরিবারের অন্য জায়গায় স্থানান্তর, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে কওমি মাদরাসায় স্থানান্তর এবং অধ্যয়নে আগ্রহ হ্রাস।

জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের করোনার ক্ষতি পোষানোর একটি পরিকল্পনা দরকার। পরীক্ষা ছাড়াই উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করেছে। কিন্তু এ জন্য তারা প্রস্তুত কি না, তা দেখা হয়নি। পড়ালেখা শুরুর আগে শিখন যোগ্যতা যাচাই করা দরকার ছিল। অন্তত দুই বছরের একটা পরিকল্পনা দরকার ছিল। এর কিছুই হয়নি। ’

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মনজুর আহমদ বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার ও এনজিও প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ করা যেতে পারে। তারা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে স্কুলে ফিরিয়ে আনবে। এ জন্য অবশ্যই বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। ’

গত ১৩ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সাতটি বিভাগের ১৭টি জেলার ৩২৮টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ৬০৬ শিক্ষার্থীর ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। নমুনা স্কুলের মধ্যে গ্রামীণ-শহুরে স্কুলের অনুপাত ছিল ৭৬ঃ২৪; প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুপাত ছিল ৫৫ঃ৪৫। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাত ছিল ৪০ঃ৬০। কভিড-১৯ সংক্রমণ কমে আসার প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলার পরে স্কুলে উপস্থিতির মূল্যায়ন করাই ছিল গবেষণার উদ্দেশ্য।

করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে গত ২১ জানুয়ারি আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব প্রতিষ্ঠান ২২ ফেব্রুয়ারি আর প্রাথমিক বিদ্যালয় ২ মার্চ খোলা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল খোলার পরে সমীক্ষা চলাকালীন তিন সপ্তাহে সর্বনিম্ন উপস্থিতি ছিল চতুর্থ শ্রেণিতে (৬৫ শতাংশ) এবং সর্বোচ্চ প্রথম শ্রেণিতে (৮৬ শতাংশ)। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন উপস্থিতি ছিল নবম শ্রেণিতে (৫৭ শতাংশ) এবং সর্বোচ্চ ছিল ষষ্ঠ শ্রেণিতে (৬৯ শতাংশ)। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের উপস্থিতির হার বেশি ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ছেলেরা ১৬ থেকে ৩৭ শতাংশ এবং মেয়েরা ১৪ থেকে ৩৫ শতাংশ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছেলেরা ৩৪ থেকে ৪৫ শতাংশ এবং মেয়েরা ২৮ থেকে ৪১ শতাংশ অনুপস্থিত ছিল। নবম শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের উপস্থিতি কমেছে। তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি ছিল।

সমীক্ষায় বেশির ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন, ছাত্ররা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ায় স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা খুবই চ্যালেঞ্জিং। তাঁরা আরো মনে করেন, বিবাহিতদের ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, তিন-চতুর্থাংশের কম শিক্ষার্থী (৭৪ শতাংশ) স্কুলে মাস্ক পরে। ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী সামগ্রিকভাবে ক্লাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে। অর্ধেকের বেশি অভিভাবক (৫২ শতাংশ) স্কুলের বাইরে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মেনে চলেন। ৯১ শতাংশ স্কুলে কমপক্ষে একটি হাত ধোয়ার পয়েন্ট রয়েছে। ৫২ শতাংশ স্কুলে সঠিক বর্জ্য নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে এবং ৬৭ শতাংশ স্কুলে প্রবেশের পয়েন্টে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। ৪০ শতাংশ স্কুলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষ রয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, লকডাউনের সময় শিক্ষার্থীরা বিরক্ত, একাকী, বিচ্ছিন্ন ও মানসিক চাপ অনুভব করেছিল। এর পেছনে কারণগুলো হচ্ছে—অভিভাবকদের আর্থিক সংকট, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, শিক্ষা বন্ধের শঙ্কা, পরিবারে সমস্যা বৃদ্ধি, অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া এবং পাঠ বোঝার অসুবিধা।

চার সুপারিশ : গবেষণায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে চার দফা সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে—উচ্চ হারে উপবৃত্তির ব্যবস্থা, বাল্যবিবাহ রোধে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় মেয়েদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া, আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com